বিদেশিরাও বার্ষিক ছুটি পেতে পারেন! ছুটি·বার্ষিক ছুটির ভাতা অবশ্যই যাচাই করুন
সবাইকে শুভেচ্ছা!
Vijob-এর পক্ষ থেকে। 👋
Korea-তে কাজ করতে করতে কি কখনও এমন ভেবেছেন?
বিদেশিরাও কি ছুটি নিতে পারেন?”
“আমি তো E-9 ভিসায় আছি, তবু কি আমার ছুটি আছে?”
“কোম্পানি ছুটি দিচ্ছে না—এটা কি ঠিক?”
“চাকরি ছাড়ার সময় বাকি ছুটির টাকা কি পাওয়া যায়?”
সোজা কথা বললে, শুধু বিদেশি বলে আপনাকে বার্ষিক ছুটির বাইরে রাখা হয় না।
Korea-তে বাস্তবে একজন শ্রমিক হিসেবে কাজ করলে বিদেশি শ্রমিকরাও শ্রম মানদণ্ড আইনের আওতায় পড়েন। Supreme Court of Korea এবং Constitutional Court of Korea-ও স্বীকার করেছে যে বিদেশি শ্রমিকদের ওপর শ্রম মানদণ্ড আইন প্রযোজ্য।
তবে বার্ষিক ছুটির ক্ষেত্রে আসল বিষয়টি জাতীয়তা বা ভিসার ধরন নয়, বরং ‘কর্মস্থলের আকার, চাকরির মেয়াদ, ও কর্মঘণ্টা’।
✅ বিদেশিরাও কি Korea-র নাগরিকদের মতোই বার্ষিক ছুটি পান?
স্থায়ী কর্মী 5 জন বা তার বেশি কর্মী-সংবলিত প্রতিষ্ঠান-এ কাজ করার সময় আইনে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে, Labor Standards Act-এর ধারা 60 অনুযায়ী বার্ষিক সশুল্ক ছুটি প্রযোজ্য হয়.
মূল নিয়মটি এভাবে মনে রাখলে সহজ হয়।
কর্মকালের সময় | বার্ষিক ছুটির সৃষ্টি |
চাকরি 1 বছরের কম | প্রতি 1 মাস টানা উপস্থিত থাকলে 1 দিনের বেতনসহ বার্ষিক ছুটি, সর্বোচ্চ 11 দিন |
1 বছরে 80% বা তার বেশি উপস্থিতি | 15 দিনের বেতনসহ বার্ষিক ছুটি |
3 বছর বা তার বেশি অবিরাম কাজ | মূল 15 দিনের বার্ষিক ছুটির সঙ্গে, প্রথম 1 বছর অতিক্রম করা অবিচ্ছিন্ন কর্মকালের প্রতি 2 বছর পর 1 দিন করে অতিরিক্ত ছুটি যোগ হয় |
সর্বোচ্চ অতিরিক্ত বার্ষিক ছুটি | মোট 25 দিন |
শ্রম মানদণ্ড আইন অনুযায়ী, 1 বছরে 80% বা তার বেশি উপস্থিত থাকা কর্মীদের 15 দিনের বেতনসহ ছুটি দিতে হবে, এবং 1 বছরের কম কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রতি 1 মাস টানা কাজ করলে 1 দিনের বেতনসহ ছুটি দিতে হবে।
তবে, 4 সপ্তাহের গড় হিসাবে সপ্তাহে নির্ধারিত কর্মঘণ্টা 15 ঘণ্টার কম এমন অত্যন্ত স্বল্পসময়ের কর্মীদের ক্ষেত্রে বেতনসহ বার্ষিক ছুটির বিধান প্রযোজ্য নয়।
🛂 E-9·E-7·H-2 ভিসা অনুযায়ী কি বার্ষিক ছুটি বদলে যায়?
বার্ষিক ছুটি সৃষ্টি হবে কি না, তা ভিসার ধরন দেখে নির্ধারণ করা হয় না।
E-9, E-7, H-2 ইত্যাদি যেকোনো থাকার মর্যাদা থাকলেও, যদি বাস্তবে আপনি শ্রম মানদণ্ড আইনের অধীনে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন, তাহলে শ্রম-সংক্রান্ত আইনের আওতায় পড়তে পারেন।
অতএব, “E-9 বলে আমার ছুটি নেই।” “আমি বিদেশি চুক্তিভিত্তিক কর্মী, তাই ছুটি দিতে পারব না।” — এভাবে জাতীয়তা বা ভিসাকে একমাত্র কারণ হিসেবে ধরে সিদ্ধান্ত নেওয়া উপযুক্ত নয়।
বরং যে বিষয়গুলো দেখা দরকার সেগুলো হলো:
আমার কর্মস্থলে স্থায়ীভাবে 5 জন বা তার বেশি কর্মী আছে কি না → কতদিন কাজ করেছি → সপ্তাহে নির্ধারিত কর্মঘণ্টা কত → উপস্থিতির হার কেমন — এসব শর্তই অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
🚨 আগে এটা দেখুন: আমাদের কোম্পানি কি ‘5 জন বা তার বেশি’?
এখানেই অনেক বিদেশি কর্মী বিভ্রান্ত হন।
শ্রম মানদণ্ড আইনের ধারা 60 অনুযায়ী আইনগত বার্ষিক বেতনসহ ছুটি মূলত 5 জন বা তার বেশি নিয়মিত কর্মী থাকা প্রতিষ্ঠানে প্রযোজ্য। তাই নিয়মিত কর্মী 4 জন বা তার কম থাকা প্রতিষ্ঠানে শ্রম মানদণ্ড আইনের ধারা 60 অনুযায়ী আইনগত বার্ষিক ছুটি অবশ্যই দিতে হবে, এমন নয়।
তবে কোম্পানির কর্মচুক্তি বা চাকরিবিধিতে যদি আলাদা বেতনসহ ছুটির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সেই চুক্তির বিষয়বস্তুও আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে।
আর ‘5 জন’ বলতে শুধু স্থায়ী কর্মী গণনা করা হয় না।
নিয়মিত কর্মীর সংখ্যা নির্ধারণের সময় মেয়াদি, খণ্ডকালীন কর্মী ইত্যাদি কর্মসংস্থানের ধরন নির্বিশেষে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কাজ করা কর্মীরা অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। নির্দিষ্ট নিয়মিত কর্মীর সংখ্যা শ্রম মান আইনের প্রয়োগ অধ্যাদেশের গণনার পদ্ধতি অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়।
📅 Korea-এর সরকারি ছুটির দিনও কি বিদেশিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
হ্যাঁ। এখানেও জাতীয়তার চেয়ে প্রতিষ্ঠানের আকার এবং আইনের প্রয়োগযোগ্যতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সরকারি সংস্থার ছুটি·বিকল্প ছুটির বেতনসহ ছুটির ব্যবস্থা ধাপে ধাপে সম্প্রসারিত হয়ে 2022 সাল থেকে 5 জন বা তার বেশি নিয়মিত কর্মী থাকা প্রতিষ্ঠানে প্রযোজ্য হয়েছে।
তাই 5 জন বা তার বেশি কর্মী থাকা প্রতিষ্ঠানে সোল্লাল, চুসক, জাতীয় দিবস ইত্যাদি আইনে নির্ধারিত ছুটির দিনে বেতনসহ ছুটি প্রযোজ্য কি না, সেটিও একসঙ্গে দেখে নিন।
অন্যদিকে, নিয়মিত কর্মী 4 জন বা তার কম থাকা প্রতিষ্ঠানে শ্রম মানদণ্ড আইনের ধারা 55-এর অনুচ্ছেদ 2-এর সরকারি ছুটির বেতনসহ ছুটির বিধান প্রযোজ্য নয়। প্রয়োগকারী ডিক্রির পরিশিষ্ট সারণিতে 4 জন বা তার কম প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ধারা 55-এর অনুচ্ছেদ 1-এর সাপ্তাহিক বেতনের ছুটির বিধান প্রযোজ্য হলেও অনুচ্ছেদ 2 অন্তর্ভুক্ত নয়।
💰 সব বার্ষিক ছুটি না নিয়ে চাকরি ছাড়লে কী হবে?
এই অংশটিও অবশ্যই দেখে নিন।
যে বার্ষিক ছুটি ব্যবহার করা যেত, তা ব্যবহার না করেই কর্মসম্পর্ক শেষ হলে শর্ত অনুযায়ী অব্যবহৃত বার্ষিক ছুটির জন্য ভাতা পাওয়ার অধিকার সৃষ্টি হতে পারে।
বার্ষিক ছুটির সময়ে চাকরিবিধি ইত্যাদিতে নির্ধারিত স্বাভাবিক মজুরি বা গড় মজুরি প্রদান করতে হবে বলে শ্রম মানদণ্ড আইনে বলা আছে, এবং বার্ষিক ছুটি ব্যবহৃত না হলে যে ভাতা নির্ধারণ করা হয়, তাতেও স্বাভাবিক মজুরি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হয়ে ওঠে।
তবে কোম্পানি যদি শ্রম মানদণ্ড আইনের ধারা 61-এর বার্ষিক ছুটি ব্যবহারে উৎসাহিত করার প্রক্রিয়া আইনে নির্ধারিত পদ্ধতিতে বৈধভাবে সম্পন্ন করে থাকে, তাহলে কিছু অব্যবহৃত বার্ষিক ছুটির জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণের দায় সৃষ্টি নাও হতে পারে; তাই নির্দিষ্ট পরিস্থিতি যাচাই করা দরকার। Ministry of Employment and Labor (고용노동부)-এর সাম্প্রতিক শ্রম পরিদর্শনের উদাহরণেও বার্ষিক ছুটি ব্যবহারে উৎসাহিত করার প্রক্রিয়া ও সময়সীমা মেনে চলা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা বিশেষভাবে দেখা হচ্ছে।
✈️ চাকরি ছাড়ার·স্বদেশে ফেরার আগে অবশ্যই যাচাই করুন!
বিশেষ করে বিদেশি কর্মীরা চুক্তি শেষ হওয়ার পরই প্রায়ই সঙ্গে সঙ্গে নিজ দেশে ফিরে যান।
তাই দেশে ফেরার আগে
① কত দিন ছুটি বাকি আছে
② ইতিমধ্যে কত দিন ছুটি ব্যবহার করা হয়েছে
③ অব্যবহৃত ছুটির ভাতা আছে কি না
④ শেষ বেতনের সঙ্গে ঠিকভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে কি না
এগুলো যাচাই করা ভালো।
কোনো কর্মী পদত্যাগ করলে, নীতিগতভাবে নিয়োগকর্তাকে পদত্যাগের তারিখ থেকে 14 দিনের মধ্যে মজুরি·ক্ষতিপূরণসহ পরিশোধযোগ্য অর্থের নিষ্পত্তি করতে হবে। তবে বিশেষ পরিস্থিতি থাকলে উভয় পক্ষের সম্মতিতে সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে।
📂 এ ধরনের নথি আগে থেকেই সংরক্ষণ করে রাখুন!
চাকরি ছাড়ার পর কোম্পানির সঙ্গে ছুটির দিনের সংখ্যা নিয়ে বিরোধ হলে রেকর্ড গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
সম্ভব হলে নিচের নথিগুলো আগে থেকেই আপনার কাছে রাখা ভালো।
📄 কর্মচুক্তি
💵 বেতন বিবরণী
📅 চাকরিতে যোগদানের তারিখ·চাকরি ছাড়ার তারিখের নথি
🗓️ ছুটির আবেদন ও ব্যবহার রেকর্ড
📱 কোম্পানির সঙ্গে ছুটি-সংক্রান্ত এসএমএস·মেসেঞ্জার বার্তা
⏰ আসা-যাওয়ার রেকর্ড
বিশেষ করে বিদেশিদের ক্ষেত্রে দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর আবার নথি পাওয়া কঠিন হতে পারে, তাই চাকরি ছাড়ার আগে সেগুলো সংগ্রহ করে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
🚨 কোম্পানি যদি ছুটি বা ছুটির ভাতা না দেয়?
প্রথমে দেখুন আপনি আইনগত ছুটির আওতায় পড়েন কি না।
স্থায়ী কর্মী 5 জন বা তার বেশি কি না, সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টা 15 ঘণ্টা বা তার বেশি কি না, কর্মকাল ও উপস্থিতির হার কেমন—এসব যাচাই করা আগে জরুরি।
আইন অনুযায়ী পরিশোধযোগ্য মজুরি ইত্যাদি বকেয়া থাকলে আপনি Ministry of Employment and Labor (고용노동부)-এ অভিযোগ দায়ের করতে পারেন, আর Labor Portal (노동포털)-এও মজুরি বকেয়া অভিযোগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে নির্দেশনা রয়েছে। আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি প্রমাণিত হয়ে নিয়োগকর্তা সংশোধন না করলে ফৌজদারি প্রক্রিয়ায় যেতে পারে।
📞 Ministry of Employment and Labor Customer Consultation Center 1350 (고용노동부 고객상담센터 1350)
আপনার কাজের ধরন জটিল হলে বা 5 জন বা তার বেশি কর্মী আছে কি না স্পষ্ট না হলে আগে পরামর্শ নেওয়াও ভালো।
✅ বিদেশি কর্মীদের ছুটি, শুধু এটুকু মনে রাখুন!
বিদেশিরাও যদি Labor Standards Act-এর অধীনে কর্মী হন, তবে শ্রম আইনের সুরক্ষা পেতে পারেন।
আর ছুটি যাচাই করার সময় ভিসার চেয়ে আগে এই চারটি বিষয় দেখুন।
কর্মস্থলে 5 জন বা তার বেশি কি? → সপ্তাহে 15 ঘণ্টা বা তার বেশি কি? → কতদিন কাজ করেছেন? → উপস্থিতির হার কেমন?
বিশেষ করে চাকরি ছাড়ার প্রস্তুতি নিলে বাকি ছুটি ও অব্যবহৃত ছুটির ভাতা নিষ্পত্তি হয়েছে কি না, সেটাও অবশ্যই যাচাই করুন।
কঠোর পরিশ্রমের পর বিশ্রাম নেওয়াও একজন কর্মীর গুরুত্বপূর্ণ অধিকার। 🌿
💬 এখনও কি কোনো প্রশ্ন আছে?
এমন কোনো প্রশ্ন থাকলে নির্দ্বিধায় মন্তব্য করুন!
অথবা Vijob কমিউনিটিতে পোস্ট লিখে সরাসরি প্রশ্ন করুন। Korea-তে আগে চাকরি পেয়ে বাস্তবে কর্মজীবন অভিজ্ঞতা অর্জন করা বিদেশি সিনিয়ররা তাদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নানা তথ্য শেয়ার করতে পারেন। 🙌
একাই চিন্তা করার চেয়ে Vijob কমিউনিটিতে সিনিয়রদের সরাসরি জিজ্ঞেস করুন!
কোরিয়ায় কাজ করা বিদেশিদের চাকরি খোঁজা থেকে শুরু করে কোম্পানির জীবন, এবং স্থিতিশীলভাবে বসবাসের ব্যবস্থা করা পর্যন্ত Vijob আপনাদের সঙ্গে থাকবে. 💙